আলো ডেস্ক:
বিডিআর বিদ্রোহের সময় হওয়া বিস্ফোরক মামলার শুনানি বার বার পেছানো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত এক বিডিআর সদস্যের সঙ্গে দেখা করার পর প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। মাহিন সরকার বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের সময় হওয়া বিস্ফোরক মামলার কোনও ভিত্তি নেই।
এরপরও বার বার এই মামলার শুনানি পেছানো হচ্ছে। আমার চাই, বিচার বিভাগ ও কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আগের বিচার যদি মাথায় রেখেই চলে তাহলে কীভাবে দেশ স্বাধীন হলো? বার বার শুনানি পেছানো হচ্ছে, সেটা নিশ্চয়ই একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। ব্রিফিংয়ের পর দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, কাল (আজ রোববার) ন্যায় বিচার না পেলে সবাই মাঠে নামবে।
ওই পোস্টে মাহিন সরকার লেখেন, ভিত্তিহীন বিস্ফোরক আইনে এখনও জেলবন্দ বিডিআর সদস্যকে দেখলাম আজ। গিয়ে দেখলাম জেল কর্তৃপক্ষের লাগানো হাতকড়া এখনও তার হাতে। দুইবার স্ট্রোক করে প্যারালাইজড, নড়াচড়ার ক্ষমতাটুকুও নেই। বিডিআর সদস্য এবং জেলবন্দি বিডিআর সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় মেয়ের সামনে দাঁড়াতেই চোখ দিয়ে অবিশ্রান্ত ধারায় অশ্রু ঝরছিল। শুধু বললেন, আমরা খুব অসহায়।
বেশিকিছু বলতে পারেননি। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও ন্যায় বিচার চায় জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, কাল শুনানি আছে। কেরানীগঞ্জেই কোর্ট বসবে হয়তো। সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য দাঁড়াবেন ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবার। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও চান, যেন তারা ন্যায়বিচার পান। তাদের সঙ্গে থাকবে পুরো বাংলাদেশ। কাল ন্যায়বিচার না পেলে ময়দানে সবাই নামবে। সব রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষকে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিচার বিভাগের শুনানি এবং সরকারের কমিশনকে মনিটরিং করার অনুরোধ করছি।
পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এর একটি হত্যা মামলা নিম্ন আদালতে রায়ের পর এখন আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। অন্যটি বিস্ফোরক দ্রব্য মামলার বিচার এখনও শেষ হয়নি। আজ রোববার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
