নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমানের (জাহিদ) উদ্দেশে ছাত্রদলের এই প্রার্থী বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় বড় ভাই জাহিদ বলেছিলেন, আমরা যেই বিজয়ী হই, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। তিনি যেন তাঁর কথা রাখেন, তাঁর কাছে এই আহ্বান রইল। তাঁরা যদি তাঁদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি থেকে একবিন্দু বিচ্যুত হন, আমরা সবাই একসঙ্গে তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করব।’
স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী শাহ পরাণ (লিখন) বলেন, ‘আমরা যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, তাঁদের সবারই ক্যাম্পাস নিয়ে স্বপ্ন ছিল। আমরা যে হেরে যাওয়ার কারণে হারিয়ে যাইনি, সেই স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত হইনি, তা জানান দিতেই আজকের এই আয়োজন। বিজয়ীরা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে তাঁদের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়নে আমাদের সহযোগিতা পাবে। তবে তাঁরা বিপথে গেলে যে একচুলও ছাড় পাবে না, তা-ও আমরা জানিয়ে দিচ্ছি এই আয়োজন থেকে।’
বিজিতদের নিয়ে কাজ করার বিষয়ে জানতে নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে রাকসুর আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করব। বিজিতদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়েই এই ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চাই।’
৩৫ বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সব মিলিয়ে ৯০২ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনে রাকসুর ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি, এজিএসসহ ২০টি পদেই জয়ী হন ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রার্থীরা।
বাকি তিন পদের মধ্যে জিএস পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাহউদ্দিন আম্মার, ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের মোছা. নার্গিস খাতুন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৭টি হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএস পদেও জিতেছেন ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা। সিনেট ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদের মধ্যে তিনটিতে তাঁরাই জয়ী হয়েছেন।