আলো ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ফিরে আসবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে অনিয়ম-সহিংসতার অভিযোগের প্রসঙ্গে টেন গতকাল সোমবার এক আলোচনা সভায় তার এ মন্তব্য আসে।
তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হল। এই নির্বাচনে কী পরিমাণ সন্ত্রাস হতে পারে, কী পরিমাণ মারামারি হতে পারে, কী পরিমাণ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, আপনারা দেখেছেন। বর্তমান সরকার দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধবংস করে দিয়েছে।
এটা স্পষ্ট যে, এই সরকারের অধীনে গণতন্ত্র আসবে না, এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ফিরে আসবে না। এ রকম অবস্থা থাকলে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে না।
এ থেকে উত্তরণে ‘সরকার পরিবর্তনের বিকল্প নাই’ মন্তব করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকার নিজের অপকর্মের ভারে পতনের মুখে। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশপ্রেমিক সকল শক্তির মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
আন্তর্জাতিকভাবেও সরকার ‘চাপে আছে’ মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, এখন আমাদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা ধাক্কা দেওয়া বাকি। সেই ধাক্কাটা দিতে আসুন সকলে সংগঠিত হই।এই সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি ‘নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করছে বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, “সব কিছুকে তারা শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য ধ্বংস করে দিয়েছে। যেখানে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে মানবাধিকারও থাকে না।
আজকে আমেরিকার মত দেশও বাংলাদেশে মানবাধিকার নাই বলে একটা রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং আমাদের এই সংস্থার উচ্চতর কর্মকর্তাদেরকে নিষেধাজ্ঞার অধীনে এনেছে।
এটা অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। এর মাধ্যমে কী প্রমাণিত হয়? প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশে যে মানবাধিকার নাই, এটা বাংলাদেশের মানুষের বলার আর দরকার হয় না, সারা বিশ্ব আজকে আমাদেরকে এই তকমাটা দিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার নাই।
অসুস্থ খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও সরকার ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে’ অভিযোগ করে এর কঠোর সমালোচনা করেন খন্দকার মোশাররফ। বাংলাদেশ সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মানবাধিকার ইস্যু এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনা হয়। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সারোয়ার হক মজুমদার শিমুল।
সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী বক্তব্য দেন।
