রা জ শা হী র আ লোঃ – ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
খালা শাশুড়ীর বাড়ি থেকে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে বাড়ি ফেরা হলনা মোঃ সোহেল রানা (৩৫) নামে এক যুবকের। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ৮ নং কুসুম্বা ইউনিয়নের অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামে। তিনি এই গ্রামের মৃত মোকবুল হেসেনের বড় ছেলে।
গত শুক্রবার তিনি তার পরিবারসহ খালা শাশুড়ীর বাড়ির উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। তিনি সেই দিন ঢাকার “ডেমরা”য় খালা শাশুড়ীর বাড়িতে রাত্রি যাপন করেন।
পরের দিন গত শনিবার দুপুরে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি খালু শাশুড়ীর বাসা থেকে বের হন। গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা ডেমরা থানা পুলিশ সোহেলের পরিবারকে জানান, সোহেল আর বেঁচে নাই।
এই খবরটি শুনার পর থেকে সোহেলের পরিবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সোহেলের আপন চাচা আমাদের প্রতিবেদককে জানান, সে একটি ভাল ছেলে। গ্রামের কারো সঙ্গে তার কোন ঝগড়া-বিবাদ নাই। সবার সঙ্গে সে মিলেমিশে চলাফেরা করে। আমার “সোহেল” কে কেন হত্যা করা হল। কারা এই হত্যাকান্ড ঘটাল তাদের বিচার চাই।
তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হউক। তার ছোট ভাই মোঃ জুয়েল রানা বিজেবি (বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড) তে চাকুরী করেন। তিনি এখন চট্রগ্রাম পতেঙ্গা বিজেবিতে কর্মরত আছেন। সোহেলের পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায় যে, সোহেল গত ৫-৬ বৎসর আগে পারটেক্টস গ্রুপ এর ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্ক এ চাকুরী করতেন।
সে সুবাদে তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, সেই বাসার পার্শ্বের বাসার ভাড়াটিয়ার স্ত্রীকে আপা বলে ডাকতেন। এই কারণে তার স্বামী সোহেলকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। তিনি গত শনিবার এক অপিরচিত মহিলাকে দিয়ে মোবাইল ফোনে সোহলকে ডেকে নেন।
পূর্ব পরিকল্পনা ছিল সোহেলকে সে আর পৃথিবীতে রাখবেনা। কথামত সোহেল সেই মহিলার নির্দিষ্ঠ জায়গায় আসে। তারপর সেই মহিলাসহ আরও ২-৪ জন পুরুষ মিলে সোহলকে হত্যা করে।
সোহেলের সঙ্গে অন্য কোন সম্পর্ক ছিল না, সেই মহিলার। সেফ আপা বলে ডাকতেন। গতকাল ডেমরা থানা পুলিশ সেই মহিলাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেন। গতকাল ময়না তদন্ত শেষে রাত্রি ৯ টার দিকে সোহেলের লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
