আলো ডেস্ক: বরিশালের হিজলায় মৎস্য অধিদপ্তরের ট্রলারে হামলায় আহত হয়েছেন মাঝি ও তার সহযোগী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অপরাধে আটক করা হয়েছে ১৩ জন জেলেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযানে আটক ১৩ অসাধু জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ছয়জনকে এক বছর করে কারাদন্ড, তিনজনকে এক মাস করে কারাদন্ড এবং চারজনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অন্যদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের ট্রলারে হামলার ঘটনায় আটক ১০ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মা ইলিশ রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য অধিদপ্তর। অভিযানে সহায়তা করে কোস্টগার্ড ও পুলিশের সদস্যরা। আটকদের বাড়ি হিজলা ও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় বলে মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে গত বুধবার রাতে মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা তিনটি ট্রলার নিয়ে অভিযানে বের হন। এ সময় মেমানিয়া ইউনিয়নের গঙ্গাপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে চারজন জেলেকে আটক করা হয়। এরপর গৌরবদী ইউনিয়নের খালিশপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে আটক করা হয় আরও ৯ জনকে। এ সময় হঠাৎ দুটি ট্রলার নিয়ে মৎস্য অধিপ্তরের ট্রলারে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ট্রলারের মাঝি মো. সোলায়মান হোসেন ও তার সহকারী মো. রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে কোস্টগার্ড ও পুলিশের তৎপরতায় হামলাকারী ১০ জনকে আটক করা হয়। মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানান, হামলাকারীরা দুটি ট্রলারে ছিলেন। তাদের কাছে রাম দা, দা সহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকার করে আসছিলেন। এ ছাড়া তারা হামলা করে অন্য জেলেদের থেকে টাকা, মাছ ও জাল ছিনিয়ে নিতেন। হিজলা থানার ওসি মো. ইউনুস জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের ট্রলারে হামলার ঘটনায় আটক ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে আটক ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
