আলো ডেস্ক : দীর্ঘ আইনি লড়াই করে অবশেষে গাজীপুরে শ্রীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের (নবজাতীয়করণকৃত) অধ্যক্ষ পদে বহাল হয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন আখন্দ। ২০০৯ সালে জোরপূর্বক তাকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে শরণাপন্ন হলে ১২ বছর সাত মাস পর তিনি স্বপদে ফিরে আসার আদেশ পান। কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনের পর শনিবার থেকে তিনি কাজে যোগ দেন। এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের পঞ্চম সিনিয়র জজ আদালত তার স্বপদে বহাল হওয়ার আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অধ্যক্ষের আইনজীবী এএএম আমানুল্লাহ ফরিদ। অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন আখন্দ জানান, ২০০৫ সালে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করে দায়িত্বরত ছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালে জোর করে কলেজ থেকে বের করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় তৎকালীন পরিচালনা পরিষদ। পরে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পরিচালনা পরিষদকে ব্যবহার করে ওই সময়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ নুরুন্নবী আকন্দ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে বহাল হন। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে তিনি গাজীপুর আদালতে দেওয়ানী মোকাদ্দমা দায়ের করেন। পরে পঞ্চম সিনিয়র জজ আদালতে তা বদলি হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে অধ্যক্ষকে স্বপদে বহাল মর্মে রায় দেন। এখন থেকে তার দায়িত্বপালনে আর কোনো বাধা রইল না। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে এটা আমার কাছে ছিল চরম অপমানের। তাই এমন অন্যায় আমি মেনে নিতে পারিনি। বিধি অনুযায়ী বয়স হয়ে যাওয়ায় আমার চাকরির মেয়াদকাল আর কয়েকমাস আছে। আদালতের আদেশে সত্যের জয় হয়েছে। বাকি কয়েক মাস আমি সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্বপালন করতে চাই। কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ মামলার আদেশের কপিসহ যোগদানের অনুমতি চেয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি শনিবার থেকে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।
