স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে টাকা চুরির অপবাদে দুই নির্মাণ শ্রমিকদের নির্যাতন করে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে শ্রমিকনেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই শ্রমিকদের হত্যার বিচার না হলে সারা দেশে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে এই প্রতিবাদ কর্মস‚চির আয়োজন করা হয়। নগরীর গণকপাড়া মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে কয়েক শত নির্মাণ শ্রমিকের অংশগ্রহণে মিছিলটি সাহেববাজার ঘুরে এসে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
দুই শ্রমিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করে মানববন্ধনে শ্রমিকনেতারা বলেন, শ্রমিক মানেই অবহেলার পাত্র নয়। এই নির্মাণশ্রমিক আছেন বলেই দেশের অবকাঠমোগত এত উন্নয়ন হয়েছে। অথচ একশ্রেণির মানুষ এই শ্রমিকদের মূল্যায়ন না করে নির্যাতন করছেন। শুধু নির্যাতন নয়, অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলছেন। আর নির্মাণশ্রমিকেরা বসে থাকবেন না।
এখন থেকে ইট মারলে পাটকেল মারা হবে। এর বিকল্প নেই।গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরীর সপুরা বিসিক শিল্প এলাকার এক বাড়ির ছাদে বেঁধে রেখে দুই নির্মাণশ্রমিককে দিনভর নির্যাতন করা হয়। বাড়ির মালিক বিসিকের মডার্ন ফুড নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবদুল্লাহ। শ্রমিকেরা এই বাড়িতে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা চুরির অভিযোগে তাঁদের নির্যাতন করা হয়।
দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় তাঁদের ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। হাত ও পায়ের নখ উপড়ে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুই শ্রমিক এত নির্যাতনের পরও টাকা চুরির স্বীকারোক্তি দেননি। নির্যাতনের খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
এরপর মুম‚র্ষু অবস্থায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে পুলিশের গাড়িতে করেই দ্রæত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগেই এক শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করা হয়। আরেকজন মারা যান ঘণ্টাখানেক পর। নিহত দুই শ্রমিক হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মগনিয়া গ্রামের মো. আতাউর (৪৫) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৈতান্নপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলাম রাজু (৩৫)। রাকিবুল নগরীর তেরোখাদিয়া ডাবতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় রাকিবুলের স্ত্রী সোমা খাতুন বাদী হয়ে চারজনের নাম উলেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এর আগে দুই শ্রমিককে উদ্ধারের সময়ই চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে এজাহারে তাঁদের নাম এলে পুলিশ এ মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায়। গ্রেপ্তার চারজন হলেন বাড়ির মালিক মো. আবদুল্লাহ (৩৮), আবদুল্লাহর শ্বশুর মাসুম রেজা (৫০), চাচাতো শ্যালক মঈন উদ্দিন (১৯) এবং কর্মচারী মো. ইমরান (২১)। গত শুক্রবার বিকালে পুলিশ তাঁদের আদালতে প্রেরণ করে। তখন তাঁরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠান।
