লিয়াকত হোসেন
রাজশাহীতে ফারিয়ার উদ্যোগে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে বিভাগীয় ফারিয়ার উদ্যোগে মহানগর ও জেলা ফারিয়ার আয়োজনে এমপিও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে থেকে প্রেসক্রিপশন এর ছবি তোলা বন্ধ, ও ৪ঢ় সার্ভে বন্ধ,বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সমন্বয় রেখে সামঞ্জস্যপূর্ন বেতন কাঠামো নির্মান, টি,এ/ডি,এ বৃদ্ধি ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণের জন্য চাকুরীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়নের দাবী জানানো হয়।
উক্ত মানববন্ধনটি কেন্দ্রীয় ফারিয়ার উপদেষ্টা আরিফুল ইসলাম রতনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর ফারিয়ার সুযোগ্য সভাপতি শামস নয়ন,সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়ার বিপ্লবী সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব,প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক,সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগ ফারিয়ার সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়া’র স্থায়ী পরিষদ সদস্য আব্দুল্লাহেল বাকী,জামিউল হক সোহেল, কেন্দ্রীয় ফারিয়ার উপদেষ্টা আরিফুল ইসলাম রতন,প্যানেল সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী সবুজ,সিনিয়র সহ সভাপতি নাজমুস সাকিব,রাজশাহী মহানগর ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম নয়ন ও রাজশাহী জেলা ফারিয়ার সিনিঃ সহ সভাপতি আবু মাসুদ রানা প্রমুখ।
ঐতিহ্য মর্যাদা ও পেশাদারিত্বে আমরা সবাই একসাথে’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত আজকের এই কর্মসূচিতে প্রায় এক সহস্রাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা এদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের এক অপরিহার্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, তাদের পেশাগত মর্যাদা ও তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক দক্ষ কারিগর। তাই এই পেশার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি এবং তাদের ন্যায্য অধিকার যেমন কথায় কথায় চাকুরী ছাটাই বন্ধ, বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সমন্বয় রেখে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নির্মান ও টি,এ/ডি,এ বৃষ্টি করতে হবে।ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির জন্য নির্দিষ্ট ৮ ঘন্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করতে হবে,অতিরিক্ত সময় কাজ করালে শ্রম আইন অনুযায়ী ওভার টাইম দিতে হবে, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়ে প্রেসক্রিপশন সার্ভে বন্ধ করতে হবে,তাদের দিয়ে ক্রেডিট কালেকশন বন্ধ করতে হবে ও প্রত্যেক কোম্পানিতে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুয়িটি চালু করতে হবে এবং প্রত্যেক প্রতিনিধির জন্য নিজ নিজ কোম্পানি থেকে লাইফ ইন্সুইরেন্স করে দিতে হবে।
এছাড়া ইনসেন্টিভ এর ক্ষেত্রে সকল প্যারামিটার বাতিল করে যার যার প্রাপ্য ইনসেন্টিভ তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
সাপ্তাহিক ছুটি ও সকল সরকারী ছুটি দিতে হবে,মোটর সাইকেল বাবদ প্রতিনিধির স্যালারী থেকে কোন টাকা কর্তন করা যাবেনা।
সর্বোপরি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগনের জন্য এমপ্লয়ী বান্ধব নীতিমালা তৈরি করে দিতে হবে। কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের উপদেষ্টাম-লী তাদের বক্তব্যে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেবাদানকারী এই মানুষগুলোর চাকরির নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম মর্যাদা আজ সংকটের মুখে। বক্তারা অনতিবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাজ করার পথে সকল বাধা দূর করার আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে তারা পিছু হটবেন না।
উপস্থিত সহস্রাধিক প্রতিনিধির স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বক্তারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্বারোপ করে বলেন, সারা দেশের প্রতিনিধিরা আজ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ফারিয়ার পতাকাতলে একত্রিত হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে বলেও নেতৃবৃন্দ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি সফল করায় সভাপতি সকল প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
