আলো ডেস্ক: সোনার বাজারে ভারত বাংলাদেশের প্রধান প্রতিপক্ষ বলে উল্লেখ করেছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি অনেক সোনার কারিগর ভারতে কাজ করছেন, তাদের যদি দেশে এনে এই কাজে যুক্ত করা যায় তাহলে আমরা আরও ভালো যোগ্যতাসম্পন্ন লোক পাবো। এবং ভালো মানের কাজের মাধ্যমে যদি ভারতের সমপর্যায়ে নিতে পারি তাহলে আমরা তাদের চেয়েও কমদামে ও কম খরচে মার্কেট ধরতে পারবো। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার (আইসিসিবি) হলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের বাজুস মেলা ২০২৩ ও জুয়েলারি শিল্পে সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সোনার ব্যবসা বাংলাদেশে শুরু থেকেই কটেজ ইন্ডাস্ট্রির মতো চলছে। কিন্তু এই ব্যবসা সেই প্রাচীন সভ্যতা থেকেই চলছে। তাই আজ আমরা এই শিল্পকে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশে এটি একটি বিশাল বাজার। সে জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের এই ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারত। এ ছাড়া চোরাচালানসহ নানা বিষয় আছে। চোরাচালান হচ্ছে ঘোষণা ছাড়া ব্যবসা। যখন বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারে না তখন সেটি চোরাকারবার হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সোনার র ম্যাটেরিয়াল নেই, মাঝে মাঝে এটির সংকট সৃষ্টি হয়। আমাদের এখানে যে র ম্যাটেরিয়াল প্রয়োজন সেটা যদি আমরা এখানে এনে পরিশোধন করে সেটার একটা ব্র্যান্ড এবং কোয়ালিটি মেইন্টেইন করে বাজারজাত করতে পারি তাহলে এটি সার্থক হবে। তিনি আরও বলেন, বাঙালি যেখানে আছে নারী যেখানে আছে সেখানে সোনার কদর আছে।
সোনা আমাদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যের মতো, এটি কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। পারিবারিকভাবে যখন সচ্ছল থাকে তখন সোনা গয়নায় রূপান্তরিত হয়। আর কোনো সংকট দেখা দিলে সেটা বিক্রি করা হয়। নতুন করে সোনা উৎপাদনের সিকিউরড জোনের জন্য বসুন্ধরার উদ্যোগে বড় জায়গার ব্যবস্থা করলে সরকারি তদারকিতে তা কাজে লাগানো যাবে বলেও জানান মন্ত্রী। বাজুসের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, সোনার চোরাচালান বন্ধে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। দুবাই থেকে সোনা আনলে ট্যাক্স ফ্রি, তাহলে আনবে না কেন? ৩৪ লাখ মানুষ এই ব্যবসায় বিভিন্নভাবে জড়িত। সরকার যদি আমাদের সুযোগ করে দেয় তাহলে এই ব্যবসা অনেক বড় ভূমিকা রাখবে অর্থনীতিতে। সোনার শিল্প গড়ে তুলতে সিকিউরড এলাকা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এই শিল্পের জন্য একটা সিকিউরড জোন।
এক থেকে তিন হাজার একর জায়গা দিলে এটি আরও অনেক বড় শিল্প হিসেবে ভ‚মিকা রাখবে। আইন শিথিল করলে, ট্যাক্স শিথিল করলে আর চোরাচালান থাকবে না। আর আমাদের উৎপাদিত পণ্যে ভ্যালু ইডিশন করতে পারে ৫০ শতাংশ। এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জুয়েলারি শিল্প বাংলাদেশে অনেক পুরোনো শিল্প। হাতে বানানো জুয়েলারি ৮০ শতাংশ বাংলাদেশ ও ভারতেই বানানো হয়। এই শিল্পের অনেক সম্ভাবনা আছে। দেশের জুয়েলারি শিল্পীদের হাতে গড়া অলংকার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হয়েছে বাজুস ফেয়ার ২০২৩। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলা মেলায় গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গহনাপ্রেমী এবং দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এদিন দুপুরে আইসিসিবির নবরাত্রি হলে আয়োজিত মেলায় দেখা যায় এমন চিত্র।
মেলায় স্বনামধন্য বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তাদের বিভিন্ন গহনায় ছাড় দিয়েছে। মেলায় ডায়মন্ডের সব ধরনের জুয়েলারিতে ৩২ শতাংশ ছাড় দিয়েছে আপন জুয়েলার্স। এ বিষয়ে আপন জুয়েলার্সের সেলস এক্সিকিউটিভ ভাস্কর ঘোষ সুমন বলেন, মেলা উপলক্ষে ডায়মন্ডের সব জুয়েলারিতে আমরা ৩২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। এ ছাড়া গোল্ডসহ সব ধরনের জুয়েলারিতে মেকিং চার্জেও (মজুরি) ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। পাশাপাশি কিছু গিফট রেখেছি, যেগুলো র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ছুটির দিনে কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবছর ভালো সাড়া পাচ্ছি। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবারে মেলায় দর্শনার্থী বেড়েছে।
বিকেল থেকে হয়তো আরও মানুষ আসবে, ভিড় বাড়বে। সবমিলিয়ে প্রত্যাশিত একটা সাড়া পাবো বলে আশা করছি। জানা গেছে, বাংলাদেশে জুয়েলারি শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন দ্বিতীয় বাজুস ফেয়ার চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাজুস ফেয়ারে প্রবেশ টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ১০০ টাকা। তবে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকিট লাগবে না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রেসিডেন্ট ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার নবরাত্রি হলে এর উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এই মেলায় স্বর্ণের অলংকারের ৮টি প্যাভিলিয়ন, ১২টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ৩০টি স্টল আছে। সেগুলোতে দেশের ঐতিহ্যবাহী ৫০টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
